ক্রিকেট বিশ্বকাপ

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড বিশ্লেষণ পর্ব-১৩: তাসকিন আহমেদ

বিশ্বকাপ স্কোয়াড বিশ্লেষণ পর্ব-১৩: তাসকিন আহমেদ

গতির সাথে ভেরিয়েশন এই দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছেন তাসকিন আহমেদ। হয়ে উঠেছেন অপ্রতিরুদ্ধ, দলেও জায়গা পাকা হয়েছে এই পেসারের। সময়ের সাথে কতটা পরিনত হয়েছেন তাসকিন আহমেদ, কিংবা বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তার গুরুত্বই বা কতটুকু তাই থাকছে ‘বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড বিশ্লেষণ’ এর এই পর্বে।

জাতীয় দলে এসেছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটের আসর বিপিএল মাতিয়ে। প্রথম দিকে দলে থিতু হবার চেষ্টা করলেও ইনজুরি ছিল প্রধান বাধা হিসেবে। তবে সেই ইনজুরিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখন অনেকটা পরিনত তাসকিন। যার দরুন জায়গা মিলেছে বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও।

ডানহাতি এই পেসারের বোলিংয়ে প্রধান শক্তি হচ্ছে ‘গতি’। নামের পাশে টাইটেলও জুড়েছে ‘স্পিডস্টার’। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কাবু করার ক্ষেত্রে গতির ঝলক যেন তার দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ দলে বর্তমান পেসারদের মধ্যে গতির দিক থেকেও সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এই পেসার। ইয়র্কারের সাথে বাউন্স কিংবা অফ কাটার বলটাও এখন নখদর্পে তাসকিনের। স্লো উইকেটে কিছুটা স্ট্রাগল করলেও স্পোর্টিং উইকেটে ভিন্ন তাসকিনের দেখা মিলে হরহামেশাই।

তাসকিনের ক্যারিয়ার জুড়ে পুরাতন বলে পাওয়ার প্লেতে যতটা সাপোর্ট দিয়েছেন দলকে, এরচেয়ে বেশি মেলে ধরতে পেরেছেন শুরুর দিকে। নতুন বলে পাওয়ার প্লেতে তাই এখন অধিনায়কের সেরা পছন্দের তালিকায় রয়েছেন তাসকিনই।
একদিনের ফরম্যাটে তাসকিন দলের হয়ে নিয়মিত খেললেও টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য টিম ম্যানেজমেন্ট তার চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে অন্যান্য পেসারদেরকেই। পরিসংখানটা এখনও সমৃদ্ধ করতে না পারলেও ফিটনেস ধরে রেখে ক্রমাগত উন্নতি করছেন এই ফরম্যাটেও। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হয়তো আরও কিছুটা সময় নিলেই দলে জায়গা পাকা করতে পারেন তাসকিন।

দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারাটা খুব বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে নেই তাসকিনের সেটা স্পষ্ট। এখন পর্যন্ত ২৪ ম্যাচের ২২ ইনিংসেই বল করেছেন তাসকিন আহমেদ। তার ইকোনোমিটা ৮.৩৮ এবং গড় ৪০.০৬।

পরিসংখ্যান তাসকিনের পক্ষে কথা না বললেও মাঠে তার বল করার সামর্থ্য রয়েছে বেশ। আলাদা করে বলতে গেলে গতি ধরে রেখে একই জায়গায় ক্রমাগত বল করে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করার ক্ষেত্রেও বিশেষ পারদর্শী এই পেসার। ফলে বিকল্প পেসার হিসেবে বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও টিকে গেছেন তিনি।

একটা সময় তাসকিন আহমেদের ফিল্ডিং নিয়ে সমালোচনা খানিকটা বেশিই হতো। ক্যাচ ফেলে দেয়া কিংবা বল কুড়িয়ে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও দুর্বলতা ছিল কিছুটা। তবে গত দুয়েক বছরে সেই অবস্থা কাটিয়ে ২৬ বছর বয়সী এই পেসার ফিল্ডিংয়েও পরিনত হয়ে উঠেছেন।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে পেস বোলার হিসেবে রয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এবং তাসকিন আহমেদ। বিশ্বকাপের এই আসরে তাসকিন বাদে দলে যে তিনজন পেসার রয়েছেন তাদের মধ্য থেকে মুস্তাফিজ ও শরিফুল একাদশে জায়গা অনেকটাই পাকা। বাড়তি একজন পেসার খেলানো হলে হয়তো তাসকিনের চেয়ে সাইফুদ্দিনকেই বাছাই করতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে একাদশে সুযোগ পেলে যে তাসকিনও নিজের সেরাটা দিয়ে দলের জন্য অবদান রাখতে পারেন সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

নিয়মিত ক্রিকেট আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত হোন ফেসবুকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button