ফিচার

বিশ্বকাপের কল্যাণে ক্রিকেটকে কতোটা বুঝে উঠতে পারলো মার্কিনিরা?

কাগজে-কলমে ফুটবলের আগেই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের সাক্ষী হওয়া ক্রিকেট নিজের পরিচিতিটা এখনো সর্বজনীন করে উঠতে পারেনি। চলতি বিশ্বকাপের কথাই ধরুন, ২০ দলের মধ্যে ৭ দলই এশিয়া থেকে এসেছে যেখানে ইউরোপ থেকে মাত্র ৪, আফ্রিকা থেকে ৩, মধ্য আমেরিকা হতে স্বাগতিক দুই দলের সঙ্গে কানাডা আর ওশেনিয়া থেকে বাকি ৩ দল খেলছে। তবে দেরিতে হলেও ক্রিকেটকে আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলতে আইসিসি কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে যার মধ্যে অন্যতম ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশকে সহযোগী আয়োজকের ভূমিকায় এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আনা। তবে, বেসবল, বাস্কেটবল কিংবা নিজেদের সংস্করণের ‘ফুটবলে’ মেতে থাকা মার্কিনিরা ক্রিকেটকে নিয়ে কী ভাবছে সে প্রশ্ন উঠেছে এবার।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল নিউজ ডটকম ডট এইউয়ের এক প্রতিবেদনে এই বিষয় উঠে এসেছে দারুণভাবে, যেখানে মার্কিনিদের ক্রিকেট উপলব্ধি নিয়ে খানিকটা হতাশাই প্রকাশ করেছেন লেখক। আমেরিকার জামাই এবং জাতীয়তায় অস্ট্রেলিয়ান এই লেখক নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে প্রথমে বলেন, ‘গেল বছর আমি যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে অস্ট্রেলিয়া দলের ইংল্যান্ডে টেস্ট সফরের পুরো ৩০টি দিন আকর্ষণীয় ম্যাচগুলো দেখেছিলাম এবং প্রত্যেকবার খেয়াল করেছি, একটি উইকেটের পতনের পর আমার প্রতিক্রিয়া/চিৎকার শুনে আমার শ্বশুড় এবং শালা/সুমন্দি লিভিংরুমে ছুটে এসেছিলেন।

আমি কেন এতো জোরে চিৎকার করছিলাম এবং খেলায় কী চলছে সেটি বোঝার জন্য তারা বারবার আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলো এবং ভারতের বিপক্ষে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল ও ইংলিশদের বিরুদ্ধে ৫টি স্মরণীয় ম্যাচের পর আমি ভেবেছিলাম তারা ক্রিকেট সম্পর্কে কিছু ধারণা অর্জন করতে পেরেছে।

কিন্তু প্রায় ২৮দিন যাবত একসাথে খেলা দেখার পর অ্যাশেজ সিরিজের ৫ম টেস্ট চলাকালে তাদের মধ্য থেকে একজন প্রশ্ন করলো, ‘ওহ, এখানে কি দুইজন ব্যাটার একইসময়ে ব্যাটিং করছে?’ তখন আমরা সবাই মিলে এ বিষয়ে শিক্ষাদান আর না এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।’

এরপর সেই লেখক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিনিদের করা বেশকিছু টুইটের ছবির সাথে বর্ণনা যোগ করেছিলেন যেগুলো মূলত পাকিস্তান এবং কানাডার বিপক্ষে স্বাগতিকদের জয়ের পরবর্তী সময়ে উৎসুক কিছু দর্শকের লেখা ছিলো। যেগুলোর বাংলা করলে যেমনটা দাঁড়ায় – কোনো এক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত দর্শক আমেরিকার ১১০/৮ এর জবাবে স্কোরবোর্ডে ভারতের ৬ ওভারে ৩৩/২ দেখে টুইট করেছেন, ‘এটা আবার কেমন স্কোরিং পদ্ধতি? মানে কী এটার!’

One puzzled viewer just couldn't figure out the scoreboard.

আবার র‍্যাচেল নামের জনৈক ব্যক্তির সেই টুইটের জবাবের আরো কিছু মার্কিনি তাদের মতো করে ব্যাপারটি বোঝানোর চেষ্টা করেন। একজন উত্তরে লেখেন, ‘এর মানে তোমারদের জন্য খেলা শেষ (পরাজয়), তবে আমাদের নাম্বার তো বেশি!’

অন্যদিকে খেলা শেষে ডেভিড ট্যাগার্ট নামের আরেক ব্যক্তি লেখেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা হেরেছি কিন্তু বুঝতে পারছি না এটার (স্কোরকার্ডের) মানে কী। ওরা ৭ উইকেটে জিতেছে? কিন্তু ৭ সংখ্যাটা কোথায়?

আশা করি আমরা এই খেলায় সত্যিকার অর্থেই সেরা হয়ে উঠবো কিন্তু একটা ভালো সম্ভাবনা আছে যে আমি কখনোই এটা (ক্রিকেট) বোঝার চেষ্টা করবো না।’

"But where is a 7?"

আরেক ব্যক্তি তো আরো এক লাইন সরেশ। তিনি লিখেছেন, ‘নিউ ইয়র্কে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট সিরিজে ভারতের বিপক্ষে মাত্র এক পয়েন্টে ১১১-১১০ জেতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিনন্দন।’

Another post poking fun at America's struggles to understand the score.

শেষে অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য শুভকামনা জানানোর আগে জেই ব্যাডনাল নামের সেই লেখক/প্রতিবেদক জানান এমনকি কিছু আমেরিকান ক্রীড়া সাংবাদিকেরাও খেলায় কী ঘটছে সেটা বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন, যে কারণে দর্শকদের জন্য সবকিছু তাদের ভেঙে ভেঙে ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে।

ইতি রেখা টানার আগে আরেকটি মজার ব্যাপার জানিয়ে যাই, ১৮৬১ সালে আমেরিকান গৃহযুদ্ধের আগে ক্রিকেটই ছিলো মার্কিন মুলুকের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। তবে গৃহযুদ্ধের সময় সৈনিকরা যখন বেসবলকে সহজলভ্য ও সুবিধাজনক খেলা হিসেবে গ্রহণ করে তখন ধীরে ধীরে খেলাটি হয়ে ওঠে অপরিচিত।

আজকের প্রতিবেদনের বিষয়ের ওপর ইংরেজিতে লেখা মূল প্রতিবেদনটি পড়ে নিতে পারেন এখান থেকে: https://www.news.com.au/sport/cricket/simple-cricket-detail-americans-cant-understand-wtf-is-this/news-story/7c6cf3aff8c7e165a40451a52acf7a8c

আর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচের ম্যাচ রিপোর্ট পেয়ে যাবেন টাইগারক্রিকের ইংরেজি বা বাংলা ওয়েবসাইটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button