ক্রিকেট ফ্যাক্ট

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার উসমান খাজা’র গল্প

অস্ট্রেলিয়া’র অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান উসমান খাজা। ইঞ্জুরির কারনে ১৪ টেস্ট ম্যাচ পর এশেজে’র ৪র্থ টেস্টে ব্যাক টু ব্যাক ইনিংসে শতক হাঁকানো উসমান খাজা’র টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪৫ টা ম্যাচ খেলে ৭৯ ইনিংসে করেন ৩১২৫ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারে তার রয়েছে ১৪টি অর্ধ-শতক এবং ১০ টি শতক। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪০ ম্যাচে’র ৩৯ ইনিংস খেলা খাজা’র মোট রান ১৫৫৪।

ওয়ানডে তে রয়েছে তার ১২ টি অর্ধ-শতক এবং ২ টি শতক। টি২০ ফরমেটে নবীন হলেও পরিসংখ্যান বলে, উসমান খাজা টি২০ তেওব্যাটসম্যান ৯ ম্যাচ ও ৯ ইনিংস খেলা খাজা’র টি২০ তে রান ২৪১। রয়েছে তার ১ টি হাফ-সেঞ্চুরি। এমন এই দুর্দান্ত ব্যাটারের গল্প তুলে ধরা আজকের এই প্রতিবেদনে।

উসমান খাজা’র জন্ম পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাতে। উসমান খাজা’র বয়স যখন মাত্র ১০, তখন পাকিস্তান থেকে অস্ট্রেলিয়া’তে শিফট হয় তার পরিবার। অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে বসবাস শুরু করে খাজা’র পরিবার। ইংরেজী ভালোভাবে না জানার ফলে শুরুর দিকে অনেকটাই কষ্ট করতে হয়েছে উসমান খাজা’র। এরপর বাসার পাশের মাঠে নিয়মিত ক্রিকেট খেলা শুরু করেন খাজা। আর এরপর ক্রিকেটের প্রতি এক গভীর প্রেম ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয় তার। তবে দুর্ভাগ্যবসত ইংরেজী না জানার কারনে স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে মেশাটা কঠিন হয়ে পরে তার জন্য। আর ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি এই যুদ্ধটাও তিনি চালিয়ে যান।

যতই বড় হতে থাকেন উসমান খাজা, ক্রিকেটের তার প্রতিভা ততই উন্মোচন করতে শুরু করে। আস্তে আস্তে তিনি একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার হয়ে উঠেন। তবে শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়া বোর্ড থেকে তাকে স্বাগতম দেয়া হয়নি। মুসলিম বা বর্নবীদের জন্য তাকে নানা বৈশম্যের শিকার হতে হয়। পাকিস্তানে ১০ বছর থাকার কারনে অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতির সাথে তাল মেলাতে তার অনেকটাই খা-খাওয়াতে হয়েছিলো যা একজনের জন্য অনেক কঠিন বিষয়।

এরপর সকল যুদ্ধ জয় করে এগোতে থাকেন খাজা। তার আক্রমনাত্বক, অসাধারন এবং দুর্দান্ত ব্যাটিং পার্ফর্মেন্স দ্বারা নিজেকে সকল প্রতিকূলতার মাঝেও কাটিয়ে উঠতেন। এরপর ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অজিদের হয়ে ডাক পান তিনি। সেই বিশ্বকাপে অজিদের ওপেনিংয়ে দায়িত্ব পান উসমান খাজা। সেখান থেকেই ক্রিকেটে তার অসাধারন পথচলা শুরু হয়। এরপর ঠিক ৪ বছর পর, অর্থাৎ ২০১১ সালে অজিদের প্রধান দলের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এরপর এশেজের জন্য তাকে ডাকা হয় যার মধ্য দিয়ে তার অভিষেক ঘটে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে।

দলের ডাক পাওয়ার পর প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার হওয়ায় নানা সমালোচনা’র মুখে পড়তে হয় তাকে। এরপর তার দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফর্মেন্স এর কারনে সকল বাধাবিপত্তিকে পরাজয় করে শুরু হয় তার সাফল্য।সেই সাফল্যের ধারায় আজও তিনি অজি সমর্থকদের অন্যতম ভরসার নাম। অজিদের যেকোন ফর্মেটেই বিধ্বংসী এই ব্যাটার। ওয়ার্নার, স্মিথদের মতন তিনিও বর্তমান যুগের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম, যার প্রমান মিলে এবারের এশেজের ৪র্থ ম্যাচে। ইঞ্জুরির কারনে ১৪ টেস্ট ম্যাচ না খেলেও এশেজের ৪র্থ ম্যাচে পর পর ২ ইনিংসে শতক হাকান এই ক্রিকেটার। প্রথম ইনিংসে করেন ১৩৭ রান ও দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১০১ রান। আর এমন অতুলনীয় ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হোন সেই উসমান খাজা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button